Skip to main content

দল বদলালেই রাষ্ট্র বদলায় না; বদলাতে হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠান।

ByFarjana Ema

Political Correspondent

2 min read

Photo:

সংস্কার পরিবর্তনের একটি মডেল যা ইতিবাচক পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর পরিবর্তন করে। সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে সংস্কার করা সম্ভব। সংস্কার একটি রাজনৈতিক প্রপঞ্চ, সংস্কার বাস্তবায়নে মূল অনুঘটক হচ্ছে রাজনৈতিক দল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলের সংস্কার প্রয়োজন।

আমরা যদি রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলতে যাই, তাহলে বলতে হবে আইনি ফাঁকফোকর গলে সরকার জনগণকে যে শাসন,শোষণ ও নির্যাতন করে সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে তার জন্য সংবিধানেও কিছু সংশোধন দরকার। একটি দেশে যদি বিপ্লব হয় তাহলে আগে সংবিধান বাতিল করে দেয় কিন্তু আমাদের দেশে তা দেখছি না। এছাড়াও একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অন্যতম দিক হলো রাজনৈতিক দলগুলো। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার দেখতে পাওয়া যায় না। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি হয়ে থাকে নেতাকেন্দ্রিক। দলীয় প্রধান ব্যাপক ক্ষমতায় আবদ্ধ থাকে। দলের ভিতর কোন যোগ্যতার বিচার বিবেচনা না করে বোর্ড নির্বাচন গঠিত হয়। তারা যদি তাদের দলের মধ্যে পরিবর্তন না আনে তাহলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে না। রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে মূল্যবোধের চর্চা হয় না। তাদের নেতৃত্বের অধিকাংশ আইনের উৎস সম্পর্কে জনগণের স্পষ্ট ধারণা নেই। একটি দল ক্ষমতায় গেলে সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত জাতীয় ভিত্তিক মালিকানা কাঠামো তৈরি করে তা একেবারেই পরিবর্তন করতে হবে।

সংস্কার যেন কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় থাকার কৌশলে পরিণত না হয়-এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যে সংস্কার সমর্থন করে ক্ষমতায় গিয়েও তা যেন বহাল রাখা হয়। তাই এমন সংস্কারই সমর্থন করা উচিত, যা বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের যেকোনো সরকার ও বিরোধী দলের জন্য কার্যকর থাকে।

সংস্কারের বিষয়ে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করা প্রয়োজন। সব রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ এক হতে হবে এমন না, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে ঐক্যমত টাকা জরুরি।যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলোকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে যুক্তি, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা।

নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাব মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করা দরকার। সংস্কার আলোচনায় নির্বাচন কমিশনের নিয়োগের স্বচ্ছতা, কমিশনের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়া, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক মতের অধিকারকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক প্রভাব প্রশাসনিক দুর্বলতা, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার অভাব এসব বিষয় মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীতি নির্ধারণের পাশাপাশি নিজেদের দলের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

জনপ্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা দক্ষতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

যদি রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার কে ক্ষমতার হাতিয়ার না বানিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করে।তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে কোন একক দল নয়- থাকবে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ।

Comments

No comments yet. Be the first.

Related Stories

First published 25 September 2026. Spotted an error? Read our corrections policy.