কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বাংলাদেশের পথচলা ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ!
ByFarjana Ema· Political Correspondent
2 min read

জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী বৈষয়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপ সামলিয়ে নতুন সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং নানা দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করে আসছেন।এমতাবস্থায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে।
সম্প্রতি সংস্কারের উদ্যোগ :
২০২৪ সালের নভেম্বরে সরকার স্থানীয় সরকার সস্কার কমিশন গঠন করে। এ স্থানীয় সরকারকে শুধু প্রশাসনের নিচে স্তর হিসাবে না রেখে কিভাবে আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংস্কার সংক্রান্ত নথিতে ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা বিকেন্দীকরণে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়ে :
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ শুধু প্রশাসনিক সস্কার নয় ;এটি জনগণের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের সংবিধান স্থানীয় সরকারের জন্য সেই ভিত্তি তৈরি করেছে । কিন্তু বাস্তব ক্ষমতা, অর্থ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বড় অংশ এখনো কেন্দ্র নির্ভর।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এখনো কাঙ্কিত মাত্রায় পৌঁছায়নি, এটি অনেকাংশে কেন্দ্রীয় কাঠামোর উপর নির্ভরশীল। যার ফলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব উৎস থেকে যে কর বা রাজস্ব আদায় হয় তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। এজন্য বরাদ্দের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়াও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জনপ্রতিনিধির সাথে কার্য পরিধির স্পষ্ট বিভাজন না থাকায় অনেক সময় দ্বন্দ তৈরি হয় এবং কাজের গতি কমে যায়।
একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে উন্নয়ন পরিকল্পনা মানুষের কাছাকাছি যাবে, স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের সুযোগ হবে এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের জবাবদিহি কাঠামো আরো সরাসরি হতে পারে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন কাগজে-কলমে ক্ষমতা অর্পণের পরিবর্তে দায়িত্ব, অর্থ, জনবল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার বাস্তব বিকেন্দ্রীকরণ।
সামনে কি প্রয়োজন বা সম্ভাবনা :
স্থানীয় সরকারকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয় ক্ষমতার বাস্তব হস্তন্তার ও প্রয়োজন
১.দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন :
কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা উপজেলা ও স্থানীয় সরকারের কোন স্তর কোন কাজ করবে তা আইন ও বিধির মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
২.আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি :
স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের একটি পূর্বনির্ধারিত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
৩.স্থানীয় বাজেটের স্বাধীনতা :
স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ব্যয়ের সুযোগ দিতে হবে।
৪.জনবল ও প্রশাসনিক ক্ষমতা :
যেসব দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের উপর দেওয়া হবে, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে।
৫.স্থানীয় অংশগ্রহণ বাড়ানো :
ওয়ার্ড সভা, উন্মুক্ত বাজেট নাগরিক মতামত এবং সামাজিক নিরীক্ষার মতো ব্যবস্থাকে কার্যকর করা প্রয়োজন।
৬.জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা :
বিকেন্দ্রীকরণের অর্থ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি করা নয়। বরং ক্ষমতার সঙ্গে স্বচ্ছতা নিরীক্ষা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও নিশ্চিত করতে হবে।
Political Correspondent ·
I’m a political journalist focused on covering politics, public affairs, political developments, and current events. I work on news reporting, political analysis, interviews, and digital content, with an emphasis on accuracy, context, and responsible journalism.
Related Stories
Related Stories
First published 22 September 2026. Spotted an error? Read our corrections policy.
